৩ তারিখ রাত ১০.৩০ মিনিট। তিন বন্ধু মিলে সি.এন.জি অথবা ট্যাক্সি ক্যাব খুজছি। আমরা তখন গুলশান-২ এ। অনেক অপেক্ষার পর একটা সি.এন.জি পেলাম। সি.এন.জি তে উঠে তিন বন্ধু মিলে আলাপ করছি। কি আনন্দময় ছিল এই তিন দিন! ফিরে গেলাম ২১ তারিখ।
আই.সি.সি.আই.টি-০৯ এর উদ্বোধন ছিল সেদিন। সকাল থেকেই দারুন অনুভব করছিলাম। অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ১.০০ টায়। আমরা ঠিক ১.০০ টার আগই উপস্থিত হলাম। উপস্থিত হয়ে কিট সংগ্রহ করলাম, তারপর হালকা ফটোসেশন করলাম। আস্তে আস্তে দেখলাম সবাই হাজির হতে লাগল। দেশি-বিদেশী সব জায়গা থেকে বড় বড় ইউনিভার্সিটির প্রফেসররা, আন্তর্জাতিক আই.টি বিশেষজ্ঞরা এসে উপস্থিত হল। আমাদের স্বপ্ন যেন সত্যি হতে শুরু করল। এরকম আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে আমরা এই প্রথম। সেজন্য আলাদা একটা অনুভুতি। এভাবে প্রথম দিন পার করলাম।
রাতে এসে আমাদের প্রেজেন্টেশনের জন্য স্লাইড তৈরিতে ব্যাস্ত হয়ে গেলাম। অনেক রাতে ঘুমালাম। দ্বিতীয় দিন খুব ভোরে উঠে নামায শেষে আবার ঘুমালাম কারন দ্বিতীয় দিন আমাদের কোন কাজ ছিল না। শুধু ঘোরাঘুরি। তাই দেরি করে গেলাম। ঠিক যখন নাস্তা দিবে তখন হাজির হলাম। তারপর বিভিন্ন লোকের প্রেজেন্টেশন দেখলাম। কিছু অভিজ্ঞতা হল। তারপর লাঞ্চ করে আবার কিছু ঘোরাঘুরি করলাম। অনেকের সাথে মতবিনিময় করলাম। এভাবে দ্বিতীয় দিন শেষ করলাম।
পরের দিন আমাদের পেপারের প্রেজেন্টেশন। দায়িত্বটা পড়ল আমার উপর। আমি আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। তারপরও একবার ঝালাই করে নিলাম। সকাল ৯.৩০ মিনিটে শুরু। আমরা খুব সকালে উঠে আর একটু প্রস্তুতি নিয়ে রওনা হলাম। আমরা যখন আই.ইউ.বি ক্যাম্পাসে পৌছালাম তখন ৯.৪০ মিনিট। আমরা উপস্থিত হওয়ার পর প্রেজেন্টেশন শুরু হল। আমার টা ছিল ২য় নম্বরে। অবশেষে সেই আনন্দঘন মুহুর্ত হাজির হল। আমি আমার ভংগিতে প্রেজেন্টেশন দিলাম। আমার বন্ধুরা আমাকে স্বাগত জানাল। তারপর আমরা আবার ফটোসেশনে অংশ নিলাম, লাঞ্চ করলাম। আস্তে আস্তে দিন শেষ হতে লাগল। সন্ধ্যা ৭.০০ টায় ডিনার ছিল। ডিনার শেষ করতে করতে ঘড়ির কাটায় তখন রাত ১০.০০ টা। অবশেষে শেষ হল স্বপ্নের তিনটি দিন। কি আনন্দঘন মুহুর্ত ছিল! আমার মনের পাতায় এই দিনগুলির কথা লিখা থাকবে চিরদিন। আমি কখনও ভুলতে পারবনা। এইভাবে মনের ভাবনা আওড়াতে আওড়াতে আবিষ্কার করলাম আমরা আমাদের গন্তব্যস্থলে এসে হাজির হয়েছি। তারপর আবার আগের সেই দিনগুলি। সকালে উঠে ক্লাসে যাওয়া, ক্লাস টেস্ট, ল্যাব টেস্ট কত কিছু।