মনের ভাবনা

জানুয়ারি 20, 2010

পরীক্ষা স্থগিত এবং কুয়েটের ভবিষ্যৎ

যার অধীনে আছে: নিজের ভাবনা — ইমরান @ 2:06 অপরাহ্ন

অনেক দিন পর ব্লগে ফিরলাম। তাও জরুরী একটা ইস্যু নিয়ে কথা বলতে। আমার ভাবনার সাথে হয়ত অনেকের ভাবনাই মিলবেনা। তবু আমি মনে করি কুয়েটের একজন ছাত্র হিসেবে আমি কিছু বলার অধিকার রাখি।

গতকাল বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ছাত্ররা আন্দোলন করে পরীক্ষা পেছানোর জন্য। তাদের যুক্তি ছিল তীব্র শীতের কারনে ছাত্র-ছাত্রীরা  ঠিকমত পড়াশুনা করতে পারছেনা।   এবং এই আন্দোলনে তারা সফল হয়। কুয়েটের সব কার্যক্রম এখন ১০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়।আমার চার বছরের জীবনে এই প্রথম ছাত্রদের আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা পেছানো হল। অবশ্য পরীক্ষা পেছানোর কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে কুয়েটের সব কার্যক্রম ১০ দিনের জন্য স্থগিত। অর্থাৎ এখানে প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে কি P.L শেষ হতে যে কয়দিন বাকি ছিল ১০ দিন পর সেই কয়দিন P.L শেষ করে তারপর পরীক্ষা শুরু হবে? এই ঘটনা নিয়ে অনেকের কাছ থেকে অনেক ধরণের মন্তব্য আমি শুনেছি। কিন্তু আমি বলব এই ঘটনা কুয়েটের জন্য কখনই শুভ ফল বয়ে আনবেনা। আমি আমার মন্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করছি।

প্রথমত বাংলাদেশের পাবলিক ইউনিভার্সিটি গুলোর মধ্যে কুয়েটের ছাত্ররা সবার আগে B.Sc Engineering শেষ করে চাকরী জীবনে পা রাখবে। কিন্তু এই বন্ধের কারনে আমরাও পিছনে পড়ে গেলাম। আমি হয়ত প্রথম, দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হলে আমার মন খারাপ হত না। কিন্তু তারপরও সার্বিকভাবে কুয়েটের ক্ষতি বৈ লাভ হয় নি। কারণ এই যে একটা ধারা চালু হয়ে গেল ভবিষ্যতে এই ধারা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। যে কোন  ইস্যুতেই ছাত্ররা তখন এ ধরনের আন্দোলন করবে। যেহেতু তারা একবার সাফল্যের স্বাদ পেয়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে কুয়েটে নেমে আসবে সেশন জ্যামের মত বিরাট দুঃস্বপ্ন। অনেকের মন্তব্য শুনে আমার অত্যন্ত হাস্যকর মনে হল। কেউ বলছে তার কাছে খুব মজা লাগছে এই ঘটনা নিয়ে। তার কাছে একটা ইউনিভার্সিটিতে আন্দোলন না থাকলে নাকি ইউনিভার্সিটি মনে হয় না। আমিও একমত কিন্তু সে আন্দোলন করার আগে দেখতে হবে আমাদের কতটুকু ক্ষতি , কতটুকু লাভ। ভবিষ্যতে এর প্রভাব কেমন হতে পারে? এভাবে প্রতিনিয়ত ইউনিভার্সিটি প্রমাণ করার জন্য আমরা যদি না বুঝেই সামান্য ইস্যুতে আন্দোলন করতে থাকি তাহলে  তা আমাদের জন্য ভাল ফল বয়ে আনবেনা। অনেকে বলেছে নিজ স্বার্থের উর্ধে চিন্তা করতে। কিন্তু একটি বিষিয় চিন্তা করার দরকার যে, যারা এই আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল তারা কিন্তু সবাই শেষ বর্ষের ছাত্র বা ছাত্রী। কুয়েট যদি অদূর ভবিষ্যতে সেশন জ্যামে পড়ে তাহলে এরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। বরং যারা ২য় কিংবা ১ম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আর এই বন্ধের কারনে কি সত্যিই পড়াশুনা ভাল হবে? আমি তো নিশ্চিত এই ছুটি সবাই হেলায় কাটাবে। আমি ইতিমধ্যেই অনেককে বাড়ি চলে যেতে দেখেছি। আগামীকাল আরও অনেকে যাবে। আমি আগেই বলেছি আমার মতের সাথে অনেকের মত মিলবেনা। কিন্তু তবুও আমাদের একটু চিন্তা ভাবনা করে আন্দোলন করা উচিত।

জানুয়ারি 12, 2010

দারসুল কোরআন-পর্ব ৩

যার অধীনে আছে: ধর্ম — ইমরান @ 5:35 অপরাহ্ন

যারা আগের পোষ্ট পড়েননি তারা নিচের লিংকে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন।

দারসুল কোরআন-পর্ব ১

দারসুল কোরআন-পর্ব ২

আয়াতের ব্যাখ্যাঃ (১) বদরের ময়দানে যে গণীমতের মাল মুসলমানেরা লাভ করেছিল তা বন্টনের ক্ষেত্রে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। যেহেতু ইসলাম গ্রহণ করার পর এটাই প্রথম যুদ্ধ তাই যুদ্ধ ও যুদ্ধজনিত বিষয়াদিতে ইসলাম কি বিধান দিয়েছে তা তাদের জানা ছিল না। এ কারনে তিন ধরনের মন্তব্য শোনা গেলঃ

ক) প্রথম দল বলল, যে ব্যাক্তি যে পরিমান গণিমতের মাল হস্তগত করেছে আরবের পুরাতন রীতি অনুযায়ী সে ঐ পরিমান মালের মালিক হবে।

খ) দ্বিতীয় দল বলল, আমরা যদি শত্রুর পিছনে ধাওয়া করে তাদেরকে দূরে ভাগিয়ে দিয়ে না আসতাম তাহলে তাহলে তারা ফিরে এসে পালটা হামলা চালাতে পারত। সুতরাং এই মালে আমাদেরও অংশ রয়েছে।

গ) তৃতীয় দল রাসুল (সাঃ) এর হেফাজতে নিয়োজিত ছিল। তারা বলল, এ যুদ্ধে আমরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি। আল্লাহ না করুন! তাঁর উপর যদি কোন আঘাত আসত তাহলে বিজয় লাভ করার প্রশ্নই উঠত না। ফলে গণীমতের মালও লাভ করা সম্ভব হত না।

বিতর্ক যখন তিক্ত রুপ ধারণ করল তখনই মহান আল্লাহ এ সুরাটি নাযিল করেন।বলেছেন, “তোমার কাছে গণীমতের মাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে?” গণীমতের মালকে “আনফাল” বলা হয়েছে। “আনফাল” শব্দটি বহুবচন। একবচন হচ্ছে “নফল”। আরবী ভাষায় ওয়াজিব বা যথার্থ অধিকার ও মুল পাওনার অতিরিক্তকে নফল বলা হয়।

এ বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর দেয়া পুরস্কার ও অনুগ্রহের সম্পর্কে এই বাদানুবা, বিতর্ক কলহ চলছে? যদি তাই হয় তবে তোমরা কবেই বা তার মালিক বা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলে যে, তোমরা নিজেরাই বন্টন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে? যিনি এ সম্পদ দান করেছেন তিনিই সিদ্ধান্ত নিবেন কাকে দেয়া হবে কতটুকু দেয়া হবে।জাহেলী যুগের নীতির ফলে প্রায়ই দেখা যেত বিজয়ী সেনাদলের মধ্যে গণীমতের মাল নিয়ে প্রচন্ড সংঘাত জন্ম নিয়েছে। এমনকি অভ্যান্তরীণ সংঘাত তাদের বিজয়কে পরাজয়ে রুপান্তরিত করে দিত।সৈন্যরা চুরি করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ত। তাই এ সংঘাত এড়াতে কোরআন নিয়ম করে দিয়েছেঃ

সমস্ত গণীমতের মাল কোনরকম কম বেশী না করে পুরোপুরি ইমাম বা নেতার সামনে এনে জমা দিতে হবে। একটি সুঁই ও লুকিয়ে রাখা যাবে না। তারপর সামনের আয়াতগুলোতে বন্টনের নিয়ম বলে দেয়া হয়েছেঃ

এ সম্পদের পাচঁ ভাগের একভাগ আল্লাহর কাজ ও তার গরীব বান্দাদের সাহায্যের জন্য বায়তুল মালে জমা দিতে হবে। আর বাকী চার ভাগ যুদ্ধে যে সেনাদল অংশগ্রহণ করেছিল তাদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দিতে হবে।

এটুকু বলেই শেষ করে দেয়া হয়েছে যে ” এটা আল্লাহ ও তার রাসুলের”। কারণ প্রথমে স্বীকৃতি ও আনুগত্যের ভাবধারার পূর্ণতা লাভই ছিল উদ্দেশ্য।

(চলবে……)

জানুয়ারি 10, 2010

দারসুল কোরআন-পর্ব ২

যার অধীনে আছে: ধর্ম — ইমরান @ 4:52 অপরাহ্ন

যারা পূর্বের পোষ্ট পড়েননি তারা পড়ে নিতে পারেন নিচের লিংকে ক্লিক করে।

দারসুল কোরআন-পর্ব ১

সুরার নামঃ সুরা আনফাল(১-৪)

সুরার পটভুমিঃ এখানে সুরার পটভূমি ব্যাখা করার জন্য প্রথমে বদর যুদ্ধ ও ঘটনার বিশ্লেষণ প্রয়োজন। মাক্কী জীবনের অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) এর দাওয়াতী জীবনের প্রথম ১৩ বছর তিনি মক্কায় অবস্থান করেছিলেন।তিনি তার ব্যাক্তি সত্তার সমস্ত যোগ্যতা ও সামর্থ এ কাজে নিয়োজিত করেছিলেন। তবুও এ দাওয়াতের মধ্যে কোন কোন দিক দিয়ে বেশ কিছুটা অভাব রয়ে গিয়েছিল।

১) যে সব অনুসারী এ পতাকার ছায়াতলে এসেছে তারা কেমনভাবে এ পথকে ভালবাসে, এ ইসলামকে প্রতিষ্ঠার জন্য তার কতটুকু কোরবানী করতে প্রস্তুত ইত্যাদি। যদিও তারা কুরাইশদের জুলুম নির্যাতন সহ্য করে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিল।

২) জনশক্তিরা ছিল এলোমেলো এবং প্রভাব ছিল বিক্ষিপ্ত ও অসংহত।

৩) তখনও তারা কোথাও শিকড় গাড়তে পারে নি। অর্থাৎ কুফর ও শিরক এর মাঝে তাদের অবস্থান ছিল।

৪) যেহেতু চারদিকে কুফর ও শিরকী সমাজ ব্যাবস্থা ছিল তাই এ দাওয়াতের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের কার্যাবলী যেমন অর্থলৈতিক , সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যাবস্থা রচনা করা সম্ভবপর হয় নি।

মাক্কী যুগের শেষ তিন চার বছরে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে অপ্রতিহত গতিতে। নবুয়তের দ্বাদশ বছরে হজ্জ্বের সময় ৭৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল রাতের আধারে নবী (সাঃ) এর সাথে দেখা করল, দেখা করে তারা কেবল ইসলাম গ্রহণই করে নি বরং রাসুল (সাঃ) এবং তাঁর অনুসারীদের নিজেদের শহরে আশ্রয় দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন। এটি ইসলামের ইতিহাসে ঐতিহসিক পটপরিবর্তন। মহান আল্লাহ তাঁর নিজ অনুগ্রহে এ দূর্লভ সুযোগটি দিয়েছিলেন এবং মহানবী (সাঃ) তা সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। তাকে শুধু শরণার্থী নয়, আল্লাহর প্রতিনিধি এবং নেতা ও শাসক হিসেবে তারা আহবান করেছিলেন। তারপর বাইয়্যাত সংগঠিত হল। বাইয়্যাতের আগে আল্লাহ এর ঝুকি অবহিত করলেন। একে  “আকাবার দ্বিতীয় বাইয়্যাত” বলা হয়।

একথা কোরাইশদের কানে পৌছালে তারা প্রথমে এ দলকে মুসলমানদের কাছ থেকে ভাগিয়ে নিতে চেষ্টা করল। তারপর যখন একজন দুজঙ্করে মুসলমানঅরা মদীনায় হিজরত শুরু করল তখন তারা মহানবী (সাঃ) কে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করল। তারা মদীনার সরদার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে পত্র লিখলঃ ” হয় তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধু করবে অথবা বের করে দিবে। নতুবা আমরা সবাই মিলে তোমাদের আক্রমণ করব এবং পুরুষদেরকে হত্যা করব ও মেয়েদেরকে বাদী বানাবো”।

তারপর মদীনার প্রধান সা’দ ইবনে মু’ইয়ায উমরাহ করার জন্য মক্কা গেলেন।সেখানে হারাম শরীফের দরজার উপর আবু জেহেল তার সমালোচনা করে বলে ” তোমাদেরকে অবাধে মক্কা তাওয়াফ করতে দেবো ভেবেছো? আবু সফওয়ানের মেহমান না হলে তোমাকে এখনে হত্যা করতাম”। সা’দ জবাবে বলেন,”আল্লাহর কসম, যদি তুমি এ কাজে আমাকে বাধা দান কর তাহলে আমি তোমাকে এমন জিনিস থেকে রুখে দেবো যা তোমাদের জন্য এর চাইতে মারাত্নক। অর্থাৎ মদীনা দিয়ে তোমাদের যাতায়েত বন্ধ করে দেবো”।

এরপর দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে কুরাইশদের একটি বিরাট কাফেলা সিরিয়া থেকে মক্কার পথে অগ্রসর হয়ে এমন এক জায়গায় পৌছেছিল যেটা মদীনা বাসীদের আওতায় ছিল। তাদের সাথে ৫০ হাজার আশরাফীর সামগ্রী ছিল কিন্তু ৩০-৪০ জনের বেশি রক্ষী ছিলনা। মদীনাবাসী আক্রমন করতে পারে এই ভেবে আবু সুফিয়ান সাহায্যের জন্য এক ব্যাক্তিকে মক্কা অভিমুখে পাঠান। কিন্তু সে পৌছে ঘোষোণা করলো, “তাদের সম্পদের উপর মুহাম্মদ ও সঙ্গী সাথীরা আক্রমণ করেছে”। এ ঘোষণা শুনে কুরাইশদের বড় বড় নেতারা ক্ষীপ্ত হয়ে একহাজার যোদ্ধা রণসাজে সজ্জিত হয়ে যুদ্ধ করার জন্য রওনা দেয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মহানবী (সাঃ) অনুভব করলেন চূড়ান্ত মীমাংসার সময় এসে গেছে। ইসলামকে চিরতরে টিকিয়ে রাখার জন্য আনসার ও মোহাজিরদের পরামর্শে প্রতিরোধ গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনিও এটাও সিদ্ধান্ত নেন যে বাণিজ্য কাফেলার পরিবর্তে কুরাইশ সেনাদলের মোকাবেলা করার জন্য এগিয়ে যাওয়া উচিত।যারা যুদ্ধের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন তারা ছিলেন সংখ্যায় অল্প মাত্র ৩০০ এর কিছু বেশি(৮৬ জন মোহাজের, ৬১ জন আওস গোত্রের এবং ১৭০ জন খাজরাজ গোত্রের)। দু-তিনজনের কাছে ঘোড়া ছিল, ৭০ টির বেশি উট ছিল না। রমযান মাসের ১৭ তারিখে বদর নামক স্থানে উওভয় পক্ষের মোকাবেলা হয়। মুসলমানদের সংখ্যা কম থাকায় রাসুল(সাঃ) আল্লহর কাছে দোয়া করেন। যুদ্ধে ৭০ জন নিহত হল, ৭০ জন বন্দী এবং গণীমতের মাল লাভ করল মুসলমানেরা।

(চলবে)…..

র‌্যাগ ডে…… এবং আমার কিছু অনুভুতি

যার অধীনে আছে: স্মরণীয় ঘটনা — ইমরান @ 10:18 পুর্বাহ্ন

আজ হয়ত জীবনের সেরা দিনগুলোর মধ্যে আরও একটি দিন অতিবাহিত করতে যাচ্ছি। ভার্সিটি জীবনের এক অবিস্বরণীয় মূহুর্ত র‌্যাগ ডে। আজ আমরা র‌্যাগ ডে পালন করলাম। র‌্যাগ ডে উপলক্ষে আমরা সাদা টি শার্ট তৈরী করি এবং ঐ টি শার্টে সবাই তার মনের ভাব প্রকাশ করে। আমার গায়ের টি শার্টেও সবাই আমার সম্পর্কে তাদের মনের অনুভুতিগুলো লিখে দেয়। আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আমার বন্ধুদের প্রতি। তাদের অনুভুতিগুলো আমি রেখে দিতে চাই চিরকাল। টি শার্ট হয়ত একদিন নষ্ট হয়ে যাবে কিন্তু এই ইনটারনেট আমার বন্ধুদের অনুভুতি রেখে দেবে চিরকাল। তাই আমি এখানে আমার সব বন্ধুদের অনুভুতি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

বন্ধুদের অনুভুতিঃ

১) Really Great  —-Basu.

২) ICCIT’ 09 Boy —–Jobed.

৩) ভাল থেকো —–

৪) Like ur personality —— Sourav.

৫) vai i miss u, কাজ দাও——সৈকত।

৬) Miss u —-Shihab(2k7)

৭) I love u—–NFS Rony.

৮) Take care vi—–Fahim.

৯) u r so nice, i miss u —— Rokib khan.

১০) জাতির ইতিহাস জানতে হবে তবেই না দেশের জন্য কাজ করতে পারবা —–সাওন।

১১) miss u vai —–Amit B.

১২) Always be happy, miss u——-Biva.

১৩) sorry নিজেকে sensor করতে পারলাম না——নাসিম

১৪) Idol of 2k5 for ICCIT——-dhoom2(amit)

১৫) be happy, চুলগুলো সজারুর মত—-ইতি।

১৬) castle যেতে চাই—–

১৭) Happy Rag Day—–Ashish.

১৮) amader vuel jas ne, kmn asis bondhu?——Godslave Asad.

১৯) miss করব—-tamu(tamanna)

২০) iamsrijon——Srijon.

২১) vai, i am gonna miss u—–Auvi.

২২) হায় হায় ভাই

কদিন পরে দেখব

তুমি পাশে নাই।——পারভেজ।

২৩) uncle i will miss u so much——-mama(jakaria).

২৪) My first room mate, 104—-Atik.

২৫) একটু বেশী বেশী—–ত্বাহা।

২৬) শান্তির শীতল ছায়ায় তুমি থাকো—–অপু।

২৭) Sincere boy ভাল থেকো—–Atithi.

২৮) ভাল থাকিস বন্ধু—–সোহাগ।

২৯) My school mate, college mate, varsity mate- best wishes to u——Shaon ECE 2k5

৩০) ভাল থাকবেন—–নাসির০৭

৩১) BOSS……——-সুমাইয়া।

৩২) Do not forget me—-Foysal2k7.

৩৩) অনেক বড় নেতা হও।——–

৩৪) কাছে থাকুন——–রিজেল।

৩৫) very good guy——A.M(amit mondal)

৩৬) $ কামানো শিখতে চাই——–ফরহাদ।

৩৭) ভাল থেকো—–মৌরী

৩৮) SEXY!! ——

৩৯) Imran, I like u—–svn(shovon)

৪০) Best room mate—–Rahi.

৪১) perfect man—-svo(shuvo).

৪২) all the best—-shawon.

৪৩) Always smile—-shuvro ece 2k5

৪৪) vi, vule jeo na, miss u—–grv(gourav)

৪৫) তোমার confidence খুব ভাল—-বিজন

৪৬) সবসময় কাছে পাওয়া

বন্ধু তুই…..ভুলতে পারবনা

miss u বলব না।

i don’t want to miss u ever

be my friend—–মাহমুদ ফয়সাল।

৪৭) ইমরান তুই তো আমাদের কাছে SWIM—–Tanim.

৪৮) getup টা পুরো formal—-kaka(rifat)

৪৯) একখান-আ ভালবাসা

আর এক বুক সাধ—–নাফি।

৫০) কলিগ forever—-orin.

৫১) i love u—-jahangir.

৫২) সাতার—-ovee ece 2k5

৫৩) Imran the vi, tomak vuli nai——-hero ece 2k5

৫৪) ”ur dedication n hardwork will write ur own desired destiny”….——–shaer

জানুয়ারি 9, 2010

দারসুল কোরআন-পর্ব ১

যার অধীনে আছে: ধর্ম — ইমরান @ 8:12 অপরাহ্ন

সরল অনুবাদঃ এরশাদ হচ্ছে, ১) লোকেরা তোমার কাছে গণিমতের মাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে? বলে দাও, “এ গণিমতের মাল তো আল্লাহ ও তার রাসুলের। কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, নিজেদের পারস্পারিক সম্পর্ক শুধরে নাও এবং আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা মূমিন হয়ে থাক।২) সাচ্চা ঈমানদার তো তারাই আল্লাহকে স্বরণ করা হলে যাদের অন্তর কেপে ওঠে। আল্লাহর আয়াত যখন তাদের সামনে পড়া হয় তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়। ৩) এবং তারা নিজেদের রবের উপর ভরসা করে। তারা নামায কায়েম করে এবং আমি তাদের যা দিয়েছি তা থেকে (আমার পথে) তা থেকে খরচ করে। এ ধরনের লোকেরাই প্রকৃত মূমিন। তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে বিরাট মর্যাদা, ভুল ত্রুটির ক্ষমা। ৪) ও উত্তম রিযিক।( এই গণিমতের মালের ব্যাপারে ঠিক তেমনি অবস্থা দেখা দিচ্ছে যেমন অবস্থা দেখা দিয়েছিলযখন) তোমার রব সত্য সহকারে তোমাকে ঘর থেকে বের করে এনেছিলেন এবং মূমিনদের একটি দলের কাছে এটা ছিল বড়ই অসহনীয়। তারা এ সত্যের ব্যাপারে তোমার সাথে ঝগড়া করছিল অথচ তা একেবারে পরিষ্কার হয়ে ভেসে উঠেছিল। তাদের অবস্থা এমন ছিল, যেন তারা দেখছিল তাদেরকে মৃত্যুর দিকে হাকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।-সুরা আনফাল(১-৪)

সুরার বিষয়বস্তুঃ এ সুরাটিতে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের ঘটনাবলী পর্যালোচনা করা হয়েছে। মুসলমানদের মধ্যে তখনও কিছু নৈতিক ত্রুটি বিদ্যমান ছিল।সেগুলো দূর করার প্রচেষ্টা যাতে মুসনমানেরা চালাতে পারে সে উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম সে সব নৈতিক ত্রুটি নির্দেশ করা হয়েছে।তারপর তদের জানানো হয়েছে , এ বিজয়ে আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থন কি পরিমান ছিল। যাতে তারা মনে না করে যে, তারা শুধু তাদের শৌর্য-বীর্যেরো সাহসিকতার কারনে জয়লাভ করেছে।বরং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা এবং আল্লাহর রাসুলের আনুগত্যের শিক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

তারপর মুনাফিক, মুশরিক ও ইহুদিদের এবং এ যুদ্ধে বন্দীদের সম্বোধন করে অত্যন্ত শিক্ষনীয় বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ যুদ্ধের ফলে গণীমতের মাল সম্পর্কে মুসলমানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে কতটুকু নিজেদের মধ্যে রাখবে, আল্লাহ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করা।

এরপর যুদ্ধ ও সন্ধি সম্পর্কে ইসলামী বিধান কিরুপ হবে সে সব নৈতিক বিধান বলা হয়েছে। যাতে তারা জাহেলী পদ্ধতি থেকে দূরে থাকতে পারে। এবং দুলিয়ার উপর তাদের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠীত হবে।

ইসলামী শাসনতান্ত্রিক আইনের কতিপয় ধারাও বর্ণনা করা হয়েছে।

চলবে।

জানুয়ারি 7, 2010

মুমিনের নয়টি গুন

যার অধীনে আছে: ধর্ম — ইমরান @ 5:44 অপরাহ্ন

নিশ্চিতভাবে সফলকাম হয়েছে মু’মিনরা যারা নিজেদের নামাযে বিনয়াবত হয়, বাজে কাজ থেকে দূরে থাকে, যাকাতের পথে সক্রিয় থাকে, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে, নিজেদের স্ত্রীদের ও অধিকারভুক্ত বাদীদের ছাড়া, এদের কাছে (হেফাজত না করলে ) তিরস্কৃত হবে না, তবে যারা এর বাইরে আরো কিছু চাইবে তারাই হবে সীমালংঘঙ্কারী, নিজেদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, এবং নিজেদের নামাযগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করে, তারাই এমন ধরনের উত্তরাধিকারী যারা নিজেদের উত্তরাধিকার হিসেবে ফিরদাউস লাভ করবে এবং সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।—সুরা মু’মিনুন(১-১১)

হাদীসের ভাষায় মুমিনঃ

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, কামিল ও সত্যিকার মুসলমান হল সেই ব্যাক্তি যার হাত ও মুখ হতে (অন্য) মুসলমান নিরাপদ থাকে। আর (পাক্কা ও সত্যবাদি) মুমিন ঐ ব্যাক্তি যার কাছে মানুষ নিজের জীবন ও সম্পদকে নিরাপদ মনে করে।(তিরমিযী-নাসায়ী)

জানুয়ারি 4, 2010

ইউরোপের কতিপয় ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের আচরণ

যার অধীনে আছে: আন্তর্জাতিক — ইমরান @ 5:34 অপরাহ্ন

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশী আলোচিত যে শব্দটি তা হল ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ। আমাদের দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য কিছু শ্রেণীর লোকজন উঠে পড়ে লেগেছে। তারা ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটিকে খুব পছন্দ করে। তারা মনে করে একটি ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে থাকলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অবিচার, অবহেলা, বঞ্চিত করা হয়। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষিত হয় না। একটি বিশেষ শ্রেণী ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলতে গেলে ইউরোপ, আমেরিকার কথা খুব গর্ব সহকারে বলে। এসব দেশ ধর্মনিরপেক্ষ হওয়ায় সেখানে নাকি সব ধর্মের লোকেরা সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করছে। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু একটু গভীর থেকে দেখলে আমরা দেখতে পাব ভিন্ন চিত্র। আমি বেশী কিছু বলব না। শুধু কয়েকটি উদাহরণ দিব।

ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল যে দেশ তা হল সুইজারল্যান্ড। কিন্তু এই দেশ কি তার ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রেখেছে? বেশ কয়েক বছর আগে বিতর্কিত কার্টুন প্রচার করে কোটি কোটি মুসলমানের রিদয়ে আঘাত হানে। সে কথা কমবেশী আমরা সবাই জানি। কিছুদিন আগে এই দেশটি গণভোটের আয়োজন করে মসজিদের মিনার নির্মাণ স্থগিত করেছে। এই গনভোটের আয়োজন করেছিল খোদ দেশটির সরকার। একটি দেশের সরকার গনভোটের মাধ্যমে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ছড়াবে সেটা আর যাই হোক এটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বৈশিষ্টের মধ্যে পড়ে না। আর প্রতিবাদ করতে গেলে মুসলমানরা হয়ে পড়ে সন্ত্রাসী, জংগী। এদের মত আমাদের দেশেও যদি গণভোটের মাধ্যমে সংখ্যালঘু কোন গোষ্টীর ধর্মীয় কাজে বাধা দিতাম তাহলে এর প্রতিক্রিয়া নিশ্চয় একই রকম হত না।

আর এক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য। কিন্তু এইখানেও আসল ধর্মনিরপেক্ষতা নেই।এখানের প্রধান ধর্ম খ্রিষ্টবাদ। এই খ্রিষ্টান ধর্মের মধ্যে আবার অনেক ভাগ আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে এংলিকান চার্চ। যুক্তরাজ্যের যিনি রাজ সিংহাসনে বসবেন তাকে অবশ্যই এংলিকান চার্চের অনুসারী হতে হবে। তাদের সংসদে ২৬ জন পোপকে বিশেষ মর্যাদায় স্থান দেওয়া হয়। অথচ আমাদের দেশে কোন মৌলভি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেলে ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের মাথা খুব খারাপ হয়ে, তারা প্রচার করে যে দেশটা মৌলবাদীদের আখড়ায় পরিণত হয়ে গেছে।

ফ্রান্সের অবস্থা ত আরো হাস্যকর। সেখানে আইন করে মুসলমান মেয়েদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ তারা নাকি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এক বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর।

জার্মানীতে হিজাব পরার কারনে এক মহিলাকে ভরা আদালতে খুন করেছে এক জার্মানী যুবক। তার অপরাধ একটাই, তা হল সে মুসলিম রীতি অনুযায়ী হিজাব পরত। মহিলাটি একদিন বিকালে তার সন্তানকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে যায়। এমন সময় হঠাৎ এক জার্মান লোক এসে তাকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করে এজন্য যে সে হিজাব পরিহিতা। মহিলাটি অপমান বোধ করে এবং আদালতের তার বিরুদ্ধে মামলা করে। এই মামলার বিচার কাজ চলার সময় ঐ যুবক জনসমাগম আদালতে প্রকাশ্যে ছুরির আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে তাকে আহত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যায়। অথচ পুলিশ তখন নীরব ভূমিকা পালন করে। তাকে রক্ষা করতে যেয়ে তার স্বামীও গুরুতরভাবে আহত হয়। তাছাড়া ঐ মহিলা ছিল তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ন্যায় বিচারের সর্বোচ্চ ক্ষেত্র, দেশের আদালতে যদি একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি এমন ন্যাক্কারজনক হামলা হয় তাহলে কিভবে এই সব দেশ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যাক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করল। অথচ ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ রাষ্ট্রের উদাহরণ দিতে গেলে এই সব দেশের নাম আমরা গর্বভরে উচ্চারণ করে থাকি। তাদেরকে আমরা মডেল হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

আমি আমার উপরোক্ত লেখনীর মাধ্যমে কাউকে কিছু বোঝাতে পারলাম কিনা জানি না। তবে সবারই একটু চিন্তা করা দরকার আমরা কোন আদর্শে লালিত হচ্ছি, কাদের সমর্থন দিচ্ছি।

Theme: Rubric. Blog at WordPress.com.

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.