অনেক দিন পর ব্লগে ফিরলাম। তাও জরুরী একটা ইস্যু নিয়ে কথা বলতে। আমার ভাবনার সাথে হয়ত অনেকের ভাবনাই মিলবেনা। তবু আমি মনে করি কুয়েটের একজন ছাত্র হিসেবে আমি কিছু বলার অধিকার রাখি।
গতকাল বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ছাত্ররা আন্দোলন করে পরীক্ষা পেছানোর জন্য। তাদের যুক্তি ছিল তীব্র শীতের কারনে ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমত পড়াশুনা করতে পারছেনা। এবং এই আন্দোলনে তারা সফল হয়। কুয়েটের সব কার্যক্রম এখন ১০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়।আমার চার বছরের জীবনে এই প্রথম ছাত্রদের আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা পেছানো হল। অবশ্য পরীক্ষা পেছানোর কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে কুয়েটের সব কার্যক্রম ১০ দিনের জন্য স্থগিত। অর্থাৎ এখানে প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে কি P.L শেষ হতে যে কয়দিন বাকি ছিল ১০ দিন পর সেই কয়দিন P.L শেষ করে তারপর পরীক্ষা শুরু হবে? এই ঘটনা নিয়ে অনেকের কাছ থেকে অনেক ধরণের মন্তব্য আমি শুনেছি। কিন্তু আমি বলব এই ঘটনা কুয়েটের জন্য কখনই শুভ ফল বয়ে আনবেনা। আমি আমার মন্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করছি।
প্রথমত বাংলাদেশের পাবলিক ইউনিভার্সিটি গুলোর মধ্যে কুয়েটের ছাত্ররা সবার আগে B.Sc Engineering শেষ করে চাকরী জীবনে পা রাখবে। কিন্তু এই বন্ধের কারনে আমরাও পিছনে পড়ে গেলাম। আমি হয়ত প্রথম, দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হলে আমার মন খারাপ হত না। কিন্তু তারপরও সার্বিকভাবে কুয়েটের ক্ষতি বৈ লাভ হয় নি। কারণ এই যে একটা ধারা চালু হয়ে গেল ভবিষ্যতে এই ধারা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। যে কোন ইস্যুতেই ছাত্ররা তখন এ ধরনের আন্দোলন করবে। যেহেতু তারা একবার সাফল্যের স্বাদ পেয়ে গেছে। ফলশ্রুতিতে কুয়েটে নেমে আসবে সেশন জ্যামের মত বিরাট দুঃস্বপ্ন। অনেকের মন্তব্য শুনে আমার অত্যন্ত হাস্যকর মনে হল। কেউ বলছে তার কাছে খুব মজা লাগছে এই ঘটনা নিয়ে। তার কাছে একটা ইউনিভার্সিটিতে আন্দোলন না থাকলে নাকি ইউনিভার্সিটি মনে হয় না। আমিও একমত কিন্তু সে আন্দোলন করার আগে দেখতে হবে আমাদের কতটুকু ক্ষতি , কতটুকু লাভ। ভবিষ্যতে এর প্রভাব কেমন হতে পারে? এভাবে প্রতিনিয়ত ইউনিভার্সিটি প্রমাণ করার জন্য আমরা যদি না বুঝেই সামান্য ইস্যুতে আন্দোলন করতে থাকি তাহলে তা আমাদের জন্য ভাল ফল বয়ে আনবেনা। অনেকে বলেছে নিজ স্বার্থের উর্ধে চিন্তা করতে। কিন্তু একটি বিষিয় চিন্তা করার দরকার যে, যারা এই আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল তারা কিন্তু সবাই শেষ বর্ষের ছাত্র বা ছাত্রী। কুয়েট যদি অদূর ভবিষ্যতে সেশন জ্যামে পড়ে তাহলে এরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। বরং যারা ২য় কিংবা ১ম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আর এই বন্ধের কারনে কি সত্যিই পড়াশুনা ভাল হবে? আমি তো নিশ্চিত এই ছুটি সবাই হেলায় কাটাবে। আমি ইতিমধ্যেই অনেককে বাড়ি চলে যেতে দেখেছি। আগামীকাল আরও অনেকে যাবে। আমি আগেই বলেছি আমার মতের সাথে অনেকের মত মিলবেনা। কিন্তু তবুও আমাদের একটু চিন্তা ভাবনা করে আন্দোলন করা উচিত।