বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশী আলোচিত যে শব্দটি তা হল ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ। আমাদের দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য কিছু শ্রেণীর লোকজন উঠে পড়ে লেগেছে। তারা ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটিকে খুব পছন্দ করে। তারা মনে করে একটি ধর্ম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে থাকলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অবিচার, অবহেলা, বঞ্চিত করা হয়। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষিত হয় না। একটি বিশেষ শ্রেণী ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলতে গেলে ইউরোপ, আমেরিকার কথা খুব গর্ব সহকারে বলে। এসব দেশ ধর্মনিরপেক্ষ হওয়ায় সেখানে নাকি সব ধর্মের লোকেরা সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করছে। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু একটু গভীর থেকে দেখলে আমরা দেখতে পাব ভিন্ন চিত্র। আমি বেশী কিছু বলব না। শুধু কয়েকটি উদাহরণ দিব।
ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল যে দেশ তা হল সুইজারল্যান্ড। কিন্তু এই দেশ কি তার ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রেখেছে? বেশ কয়েক বছর আগে বিতর্কিত কার্টুন প্রচার করে কোটি কোটি মুসলমানের রিদয়ে আঘাত হানে। সে কথা কমবেশী আমরা সবাই জানি। কিছুদিন আগে এই দেশটি গণভোটের আয়োজন করে মসজিদের মিনার নির্মাণ স্থগিত করেছে। এই গনভোটের আয়োজন করেছিল খোদ দেশটির সরকার। একটি দেশের সরকার গনভোটের মাধ্যমে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ছড়াবে সেটা আর যাই হোক এটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বৈশিষ্টের মধ্যে পড়ে না। আর প্রতিবাদ করতে গেলে মুসলমানরা হয়ে পড়ে সন্ত্রাসী, জংগী। এদের মত আমাদের দেশেও যদি গণভোটের মাধ্যমে সংখ্যালঘু কোন গোষ্টীর ধর্মীয় কাজে বাধা দিতাম তাহলে এর প্রতিক্রিয়া নিশ্চয় একই রকম হত না।
আর এক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য। কিন্তু এইখানেও আসল ধর্মনিরপেক্ষতা নেই।এখানের প্রধান ধর্ম খ্রিষ্টবাদ। এই খ্রিষ্টান ধর্মের মধ্যে আবার অনেক ভাগ আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে এংলিকান চার্চ। যুক্তরাজ্যের যিনি রাজ সিংহাসনে বসবেন তাকে অবশ্যই এংলিকান চার্চের অনুসারী হতে হবে। তাদের সংসদে ২৬ জন পোপকে বিশেষ মর্যাদায় স্থান দেওয়া হয়। অথচ আমাদের দেশে কোন মৌলভি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেলে ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের মাথা খুব খারাপ হয়ে, তারা প্রচার করে যে দেশটা মৌলবাদীদের আখড়ায় পরিণত হয়ে গেছে।
ফ্রান্সের অবস্থা ত আরো হাস্যকর। সেখানে আইন করে মুসলমান মেয়েদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ তারা নাকি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এক বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর।
জার্মানীতে হিজাব পরার কারনে এক মহিলাকে ভরা আদালতে খুন করেছে এক জার্মানী যুবক। তার অপরাধ একটাই, তা হল সে মুসলিম রীতি অনুযায়ী হিজাব পরত। মহিলাটি একদিন বিকালে তার সন্তানকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে যায়। এমন সময় হঠাৎ এক জার্মান লোক এসে তাকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করে এজন্য যে সে হিজাব পরিহিতা। মহিলাটি অপমান বোধ করে এবং আদালতের তার বিরুদ্ধে মামলা করে। এই মামলার বিচার কাজ চলার সময় ঐ যুবক জনসমাগম আদালতে প্রকাশ্যে ছুরির আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে তাকে আহত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যায়। অথচ পুলিশ তখন নীরব ভূমিকা পালন করে। তাকে রক্ষা করতে যেয়ে তার স্বামীও গুরুতরভাবে আহত হয়। তাছাড়া ঐ মহিলা ছিল তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ন্যায় বিচারের সর্বোচ্চ ক্ষেত্র, দেশের আদালতে যদি একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি এমন ন্যাক্কারজনক হামলা হয় তাহলে কিভবে এই সব দেশ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যাক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করল। অথচ ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ রাষ্ট্রের উদাহরণ দিতে গেলে এই সব দেশের নাম আমরা গর্বভরে উচ্চারণ করে থাকি। তাদেরকে আমরা মডেল হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।
আমি আমার উপরোক্ত লেখনীর মাধ্যমে কাউকে কিছু বোঝাতে পারলাম কিনা জানি না। তবে সবারই একটু চিন্তা করা দরকার আমরা কোন আদর্শে লালিত হচ্ছি, কাদের সমর্থন দিচ্ছি।
চমৎকার রচনা। ঘটনাগুলো সত্য এবং দুঃখজনক… কিন্তু কথা হইল, কোনো রেফারেন্স দেয়া হয় নাই। জানোই তো আমাদের দেশের কিছু (মেকি)দেশপ্রেমিক আবার প্রমাণ ছাড়া কিছু বুঝে না (অবশ্য প্রমান দেয়ার পরও ঘটনা তাদের পছন্দ না হলে প্রমাণ অস্বীকার করে)। আসলে এই বিশেষ জ্ঞানী গোষ্ঠীকে কিছু বলে লাভ নাই, তারা মনে করে তারাই সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান
এই মর্মে উল্লেখ করতে চাই:
“আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।” (আল কুর’আন ২:১১-১২ )
Comment লিখেছেন nafsadh — জানুয়ারি 5, 2010 @ 9:34 অপরাহ্ন |
পরামর্শ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে পালন করব।
Comment লিখেছেন ইমরান — জানুয়ারি 7, 2010 @ 7:01 পুর্বাহ্ন |
অনেক ধন্যবাদ ইমরান ভাই এমন সুন্দর করে এই জিনিসগুলো তুলে ধরার জন্য। আপনি জনপ্রিয় blog গুলোতে এই লেখাটি প্রকাশ করুন। তাহলে আরো অনেকে এটি পড়তে পারবে।
Comment লিখেছেন Rezwan — জানুয়ারি 6, 2010 @ 6:45 পুর্বাহ্ন |
পরামর্শ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
Comment লিখেছেন ইমরান — জানুয়ারি 7, 2010 @ 7:01 পুর্বাহ্ন |
চমৎকার লিখেছেন, নিয়মিত লিখবেন আশাকরি।
Comment লিখেছেন জাকির বেপারী — জানুয়ারি 6, 2010 @ 5:17 অপরাহ্ন |
ধন্যবাদ।
Comment লিখেছেন ইমরান — জানুয়ারি 7, 2010 @ 6:57 পুর্বাহ্ন |
আরে ইয়ার, ধর্মনিরপেক্ষ না সাজলে যে মান সম্মান আর থাকে না!!!
Comment লিখেছেন মোসাদ্দেক মাহমুদ — জানুয়ারি 6, 2010 @ 7:23 অপরাহ্ন |