যারা পূর্বের পোষ্ট পড়েননি তারা পড়ে নিতে পারেন নিচের লিংকে ক্লিক করে।
সুরার নামঃ সুরা আনফাল(১-৪)
সুরার পটভুমিঃ এখানে সুরার পটভূমি ব্যাখা করার জন্য প্রথমে বদর যুদ্ধ ও ঘটনার বিশ্লেষণ প্রয়োজন। মাক্কী জীবনের অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) এর দাওয়াতী জীবনের প্রথম ১৩ বছর তিনি মক্কায় অবস্থান করেছিলেন।তিনি তার ব্যাক্তি সত্তার সমস্ত যোগ্যতা ও সামর্থ এ কাজে নিয়োজিত করেছিলেন। তবুও এ দাওয়াতের মধ্যে কোন কোন দিক দিয়ে বেশ কিছুটা অভাব রয়ে গিয়েছিল।
১) যে সব অনুসারী এ পতাকার ছায়াতলে এসেছে তারা কেমনভাবে এ পথকে ভালবাসে, এ ইসলামকে প্রতিষ্ঠার জন্য তার কতটুকু কোরবানী করতে প্রস্তুত ইত্যাদি। যদিও তারা কুরাইশদের জুলুম নির্যাতন সহ্য করে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিল।
২) জনশক্তিরা ছিল এলোমেলো এবং প্রভাব ছিল বিক্ষিপ্ত ও অসংহত।
৩) তখনও তারা কোথাও শিকড় গাড়তে পারে নি। অর্থাৎ কুফর ও শিরক এর মাঝে তাদের অবস্থান ছিল।
৪) যেহেতু চারদিকে কুফর ও শিরকী সমাজ ব্যাবস্থা ছিল তাই এ দাওয়াতের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের কার্যাবলী যেমন অর্থলৈতিক , সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যাবস্থা রচনা করা সম্ভবপর হয় নি।
মাক্কী যুগের শেষ তিন চার বছরে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে অপ্রতিহত গতিতে। নবুয়তের দ্বাদশ বছরে হজ্জ্বের সময় ৭৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল রাতের আধারে নবী (সাঃ) এর সাথে দেখা করল, দেখা করে তারা কেবল ইসলাম গ্রহণই করে নি বরং রাসুল (সাঃ) এবং তাঁর অনুসারীদের নিজেদের শহরে আশ্রয় দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন। এটি ইসলামের ইতিহাসে ঐতিহসিক পটপরিবর্তন। মহান আল্লাহ তাঁর নিজ অনুগ্রহে এ দূর্লভ সুযোগটি দিয়েছিলেন এবং মহানবী (সাঃ) তা সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। তাকে শুধু শরণার্থী নয়, আল্লাহর প্রতিনিধি এবং নেতা ও শাসক হিসেবে তারা আহবান করেছিলেন। তারপর বাইয়্যাত সংগঠিত হল। বাইয়্যাতের আগে আল্লাহ এর ঝুকি অবহিত করলেন। একে “আকাবার দ্বিতীয় বাইয়্যাত” বলা হয়।
একথা কোরাইশদের কানে পৌছালে তারা প্রথমে এ দলকে মুসলমানদের কাছ থেকে ভাগিয়ে নিতে চেষ্টা করল। তারপর যখন একজন দুজঙ্করে মুসলমানঅরা মদীনায় হিজরত শুরু করল তখন তারা মহানবী (সাঃ) কে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করল। তারা মদীনার সরদার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে পত্র লিখলঃ ” হয় তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধু করবে অথবা বের করে দিবে। নতুবা আমরা সবাই মিলে তোমাদের আক্রমণ করব এবং পুরুষদেরকে হত্যা করব ও মেয়েদেরকে বাদী বানাবো”।
তারপর মদীনার প্রধান সা’দ ইবনে মু’ইয়ায উমরাহ করার জন্য মক্কা গেলেন।সেখানে হারাম শরীফের দরজার উপর আবু জেহেল তার সমালোচনা করে বলে ” তোমাদেরকে অবাধে মক্কা তাওয়াফ করতে দেবো ভেবেছো? আবু সফওয়ানের মেহমান না হলে তোমাকে এখনে হত্যা করতাম”। সা’দ জবাবে বলেন,”আল্লাহর কসম, যদি তুমি এ কাজে আমাকে বাধা দান কর তাহলে আমি তোমাকে এমন জিনিস থেকে রুখে দেবো যা তোমাদের জন্য এর চাইতে মারাত্নক। অর্থাৎ মদীনা দিয়ে তোমাদের যাতায়েত বন্ধ করে দেবো”।
এরপর দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে কুরাইশদের একটি বিরাট কাফেলা সিরিয়া থেকে মক্কার পথে অগ্রসর হয়ে এমন এক জায়গায় পৌছেছিল যেটা মদীনা বাসীদের আওতায় ছিল। তাদের সাথে ৫০ হাজার আশরাফীর সামগ্রী ছিল কিন্তু ৩০-৪০ জনের বেশি রক্ষী ছিলনা। মদীনাবাসী আক্রমন করতে পারে এই ভেবে আবু সুফিয়ান সাহায্যের জন্য এক ব্যাক্তিকে মক্কা অভিমুখে পাঠান। কিন্তু সে পৌছে ঘোষোণা করলো, “তাদের সম্পদের উপর মুহাম্মদ ও সঙ্গী সাথীরা আক্রমণ করেছে”। এ ঘোষণা শুনে কুরাইশদের বড় বড় নেতারা ক্ষীপ্ত হয়ে একহাজার যোদ্ধা রণসাজে সজ্জিত হয়ে যুদ্ধ করার জন্য রওনা দেয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মহানবী (সাঃ) অনুভব করলেন চূড়ান্ত মীমাংসার সময় এসে গেছে। ইসলামকে চিরতরে টিকিয়ে রাখার জন্য আনসার ও মোহাজিরদের পরামর্শে প্রতিরোধ গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনিও এটাও সিদ্ধান্ত নেন যে বাণিজ্য কাফেলার পরিবর্তে কুরাইশ সেনাদলের মোকাবেলা করার জন্য এগিয়ে যাওয়া উচিত।যারা যুদ্ধের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন তারা ছিলেন সংখ্যায় অল্প মাত্র ৩০০ এর কিছু বেশি(৮৬ জন মোহাজের, ৬১ জন আওস গোত্রের এবং ১৭০ জন খাজরাজ গোত্রের)। দু-তিনজনের কাছে ঘোড়া ছিল, ৭০ টির বেশি উট ছিল না। রমযান মাসের ১৭ তারিখে বদর নামক স্থানে উওভয় পক্ষের মোকাবেলা হয়। মুসলমানদের সংখ্যা কম থাকায় রাসুল(সাঃ) আল্লহর কাছে দোয়া করেন। যুদ্ধে ৭০ জন নিহত হল, ৭০ জন বন্দী এবং গণীমতের মাল লাভ করল মুসলমানেরা।
(চলবে)…..
[...] দারসুল কোরআন-পর্ব ২ [...]
পিংব্যাক লিখেছেন দারসুল কোরআন-পর্ব ৩ « মনের ভাবনা — জানুয়ারি 12, 2010 @ 5:35 অপরাহ্ন |