যারা আগের পোষ্ট পড়েননি তারা নিচের লিংকে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন।
আয়াতের ব্যাখ্যাঃ (১) বদরের ময়দানে যে গণীমতের মাল মুসলমানেরা লাভ করেছিল তা বন্টনের ক্ষেত্রে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। যেহেতু ইসলাম গ্রহণ করার পর এটাই প্রথম যুদ্ধ তাই যুদ্ধ ও যুদ্ধজনিত বিষয়াদিতে ইসলাম কি বিধান দিয়েছে তা তাদের জানা ছিল না। এ কারনে তিন ধরনের মন্তব্য শোনা গেলঃ
ক) প্রথম দল বলল, যে ব্যাক্তি যে পরিমান গণিমতের মাল হস্তগত করেছে আরবের পুরাতন রীতি অনুযায়ী সে ঐ পরিমান মালের মালিক হবে।
খ) দ্বিতীয় দল বলল, আমরা যদি শত্রুর পিছনে ধাওয়া করে তাদেরকে দূরে ভাগিয়ে দিয়ে না আসতাম তাহলে তাহলে তারা ফিরে এসে পালটা হামলা চালাতে পারত। সুতরাং এই মালে আমাদেরও অংশ রয়েছে।
গ) তৃতীয় দল রাসুল (সাঃ) এর হেফাজতে নিয়োজিত ছিল। তারা বলল, এ যুদ্ধে আমরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি। আল্লাহ না করুন! তাঁর উপর যদি কোন আঘাত আসত তাহলে বিজয় লাভ করার প্রশ্নই উঠত না। ফলে গণীমতের মালও লাভ করা সম্ভব হত না।
বিতর্ক যখন তিক্ত রুপ ধারণ করল তখনই মহান আল্লাহ এ সুরাটি নাযিল করেন।বলেছেন, “তোমার কাছে গণীমতের মাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে?” গণীমতের মালকে “আনফাল” বলা হয়েছে। “আনফাল” শব্দটি বহুবচন। একবচন হচ্ছে “নফল”। আরবী ভাষায় ওয়াজিব বা যথার্থ অধিকার ও মুল পাওনার অতিরিক্তকে নফল বলা হয়।
এ বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর দেয়া পুরস্কার ও অনুগ্রহের সম্পর্কে এই বাদানুবা, বিতর্ক কলহ চলছে? যদি তাই হয় তবে তোমরা কবেই বা তার মালিক বা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলে যে, তোমরা নিজেরাই বন্টন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে? যিনি এ সম্পদ দান করেছেন তিনিই সিদ্ধান্ত নিবেন কাকে দেয়া হবে কতটুকু দেয়া হবে।জাহেলী যুগের নীতির ফলে প্রায়ই দেখা যেত বিজয়ী সেনাদলের মধ্যে গণীমতের মাল নিয়ে প্রচন্ড সংঘাত জন্ম নিয়েছে। এমনকি অভ্যান্তরীণ সংঘাত তাদের বিজয়কে পরাজয়ে রুপান্তরিত করে দিত।সৈন্যরা চুরি করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ত। তাই এ সংঘাত এড়াতে কোরআন নিয়ম করে দিয়েছেঃ
সমস্ত গণীমতের মাল কোনরকম কম বেশী না করে পুরোপুরি ইমাম বা নেতার সামনে এনে জমা দিতে হবে। একটি সুঁই ও লুকিয়ে রাখা যাবে না। তারপর সামনের আয়াতগুলোতে বন্টনের নিয়ম বলে দেয়া হয়েছেঃ
এ সম্পদের পাচঁ ভাগের একভাগ আল্লাহর কাজ ও তার গরীব বান্দাদের সাহায্যের জন্য বায়তুল মালে জমা দিতে হবে। আর বাকী চার ভাগ যুদ্ধে যে সেনাদল অংশগ্রহণ করেছিল তাদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দিতে হবে।
এটুকু বলেই শেষ করে দেয়া হয়েছে যে ” এটা আল্লাহ ও তার রাসুলের”। কারণ প্রথমে স্বীকৃতি ও আনুগত্যের ভাবধারার পূর্ণতা লাভই ছিল উদ্দেশ্য।
(চলবে……)